বিনোদন ডেস্ক :
স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত অভিনেতা যাহের আলভী অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন। তবে সরাসরি নয়, সামাজিকমাধ্যমে ২৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি রেকর্ডেড ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। মঙ্গলবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে স্ত্রীর মৃত্যু ও দেশে না ফেরার কারণ নিয়ে কথা বলেন এ অভিনেতা।
ভিডিওতে আলভী দাবি করেন, তিনি ১ মার্চ কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটেছিলেন এবং সেই টিকিটের ছবিও দেখান। তবে দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আসেননি। এর জন্য তিনি দেশের মানুষ ও স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার পরিবারকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “আমি সবকিছু ঠিক করে দেশে যেতে পারলাম না শুধুমাত্র আপনাদের জন্য। আপনারা আমাকে দেশে যেতে দেননি। ইকরার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে দেননি। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।”
অভিনেতার দাবি, দেশে ফিরলে তাকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাকে প্রচুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি দেশে গেলেই মব সৃষ্টি করে আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমার রিজিকের (ছেলে) মা আর বেঁচে নেই। এখন আমিও যদি মারা যাই, তাহলে আমার সন্তানের কী হবে? আইনিভাবে গ্রেপ্তার হলে সমস্যা নেই, আমি মোকাবিলা করব। কিন্তু জনরোষে যদি আমাকে মেরে ফেলা হয়, তাহলে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ কী হবে?”
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি নিজেকেও শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। তবে সন্তানের কথা ভেবেই বেঁচে আছেন। “১৬ বছর আমরা একসঙ্গে সংসার করেছি। শত্রুর সঙ্গেও এত বছর এক ছাদের নিচে থাকলে মৃত্যুর পর তার মুখ দেখতে ইচ্ছে করে। সেখানে ইকরা তো আমার স্ত্রী ছিল,”—বলেন আলভী।
ভিডিওজুড়ে তিনি সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সমালোচনাকেও দেশে না ফেরার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন বা আদৌ ফিরবেন কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। সবার কাছে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে রোববার বিকেলে মামলাটি দায়ের করেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় আলভীর প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথি ও মা শিউলিসহ পরিবারের কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
জানা গেছে, ইকরার মৃত্যুর আগেই আলভী নেপালে যান। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান। দেশে ফেরার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ইতোমধ্যে ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জামালপুর ট্রিবিউন/আবু সাঈদ

